শিরোনাম:
  • হিরো আলমও কিনছেন মনোনয়নপত্র
  • আমার সব ছবির সব অ্যাওয়ার্ড পাওয়া উচিত: শাহরুখ
  • মুশফিকুর-মুমিনুলের প্রশংসায় জারভিস
  • জার্মানিতে ‌বাংলাদেশ শিল্পী সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিষেক
  • ক্যারিয়ারের নতুন রেকর্ড গড়লেন মিরাজ
  • যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগুন ৮৫ বছরে দেখেনি ক্যালিফোর্নিয়া
  • দেশের ইতিহাসে প্রথম উপজেলা পর্যায়ে চরফ্যাসনে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের কার্যক্রম শুরু
  • চরফ্যাসনে উপমন্ত্রীর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে ৩০টি এতিমখানা ও মাদ্রাসায় খাবার বিতরণ
  • চরফ্যাসন উপজেলা আওয়ামী লীগে’র বর্ধিত সভা
  • চরফ্যাসনে হিন্দু সম্প্রদায়কে ২০ লক্ষ টাকার অনুদান দিলে সাবেক সাংসদ মরহুম অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের সন্তান উপমন্ত্রী জ্যাকব

অধ্যক্ষ কায়সর আহমেদ দুলালের করোনা নিয়ে লেখা – গৃহবন্দীর জবানবন্দী – ১৯

গৃহবন্দীর জবানবন্দী———১৯

।অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী য়থার্থই বলেছেন , “মানুষ মরে গেলে পচে যায় ,বেঁচে থাকলে বদলায় । কারনে অকারনে বদলায় “। যুগে যুগে মানুষ বদলিয়েছে । খারাপ মানুষ ভাল হয়েছে ,ভাল মানুষ খারাপ হয়েছে । বেনামাজী নামাজী হয়েছে । ধনী গরীব হয়েছে , গরীব ধনী হয়েছে । সভ্য অসভ্য হয়েছে ,অসভ্য সভ্য হয়েছে । ফকির আমীর হয়েছে , আমির ফকির হয়েছে । ইত্যাদি নানা রুপে মানুষ বদলিয়েছে ।বদলিয়েছে পৃবিবীর রূপ , যুগে যুগে বদলিয়েছে সভ্যতা ।

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে কত রুপে সে বদলিয়েছ তার শেষ নেই ।কিনতু মানুষ হিসেবে সে নিজেকে চিনতে পারেনি । নিজের ঠিকানা সে খুঁজে পায়নি । সে চলেছে আপন গতিতে , বাঁধাহীন পথে । হঠাৎ করোনা ভাইরাস বিনা নোটিশে তাকে গৃহবন্দী করেছে ।। সেখানে সে অসহায় । ‘বাইন্দা কিলাইলে কিল কে না খায় ‘। করোনা ভাইরাস তাকে বাধ্য করেছে ।

এতদিন মানুষ নিজেকে বাদ দিয়ে অপরকে ,ঘর বাদ দিয়ে বাহির বদলানোর পিছনে দৌড়িয়েছে । নিজেকে বদলানোর শিক্ষা নিয়ে করোনা যেন জনে জনে শুমারীতে নেমেছে । আজ হঠাৎ মনে পড়ল ।’ আচ্ছা পৃথিবীতে করোনা শক্তিশালী , না শয়তান শক্তিশালী । এবার করোনার জয় হবে ,না শয়তানের জয় হবে । করোনা আম পাবলিক বাদ দিয়ে শয়তানকে ধরতে পারেনা ? আমাদের প্রত্যাশা করোনা ভাইরাস যেন পৃথিবীকে নতুন করে বদলাবে , মানুষকে বদলাবে , জীবন বোধ বদলাবে ।

করোনার প্রভাব শুধু জীবনে নয় , জীবনের গতিকে বদলিয়েছে ।
মানুষের আবেগ ইচ্ছা শক্তিকে স্তমিত করেছে । মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ধুকেধুকে নিস্পেসিত হচ্ছে । করোনা ভাইরাস সমাজকে করেছে গৃহবন্দী ।মানুষকে করেছে মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন ।মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা অসুস্হার সংবাদে মানুষের পাশে মানুষ দ্বাড়াবার সৌজন্যতাবোধ থেকে সবাই বন্চিত ।ইচ্ছে থাকলে করোনা যেন সব কেড়ে নিয়েছে ।

আমার শ্রদ্ধাভাজন কাকা ইন্জিনিয়ার ফারুকুল ইসলাম দীর্ঘদিন কিডনী রোগে আক্রান্ত । থাকেন শ্যমলীতে ।প্রতিক্ষন ফোনে গ্রামের বাড়ীর আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নেয়ার একান্ত মানসিকতা ছিল তাঁর ।ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা । অর্থনৈতিক ভাবে বিপন্ন। অবসর জীবনে প্রাপ্ত পেনশনের সব টাকা বহু আগেই শেষ হয়েছে ।

এ রোগ হলে যা হয়ে থাকে । করোনার লকডাউনের মধ্যে সপ্তাহে দু বার ডায়ালাইসিস ।বেঁচে থাকার জন্য এ চেষ্টার বিকল্প নেই ।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অনেক ভাল মানুষ ।রুচীশীল পরিচ্ছন্ন মানুষ । জনস্বাস্হ্য বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী ছিলেন ।বরিশালে যখন কর্মরত ছিলেন ।আমাকে কলেজ হোষ্টেল থেকে তার বাসায় নিয়ে এলেন । আমার বৈবাহিক জীবন তার বাসা থেকে ।আমার সহধর্মিনী বি এম কলেজে পড়তেন তাঁর বাসায় থেকে ।তিনি যখন ঢাকায় বদলী হলেন , আমার বড় মেয়ে ,ছোট মেয়ে তার বাসায় থেকে পড়াশুনা করেছে ।বড় মেয়ের আকদ অনুষ্ঠান হয়েছে তার মোহাম্মদ পুরের ভাড়া বাসা থেকে ।আমার প্রতি তাঁর মমত্ববোধ সন্তনতুল্য।

অনেকদিন গ্রামের বাড়ীতে শেষ বারের মতো বেড়াতে আসার সখ ছিল তার । ডায়ালেসিসের ফাঁকে এ বছর মার্চ মাসের মধ্য সময়ে জীবন সায়াহ্ণে কাকা তাঁর জন্ম স্হান গ্রামের বাড়ী এসেছিলেন । বাড়ী এসে তার কি প্রশান্তি ।মনে হলো তিনি যেন সুস্হ মানুষ । তাঁর শেষ ইচ্ছা মৃত্যু যেখানেই হোক ,তাঁর কবর যেন আমাদের বাড়ীর পাশে হাফেজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্হান দাফন করা হয় । কিন্তু কার ভাগ্যে কি লেখা আছে তা মহান আল্লাহ পাক জানেন।

গতকাল্য থেকে কাকা অসুস্হ । প্রচন্ড জ্বর ,মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা । আগামীদিন তার ডায়ালাইসিসের তারিখ । এ অবস্হায় তা করানো অসম্বব হয়ে পড়েছে । করোনার আতংকে শিশেহারা সবাই । কাকার সেবা করতে যেয়ে কাকী ও অসুস্হ । ঢাকার শহরে আত্মীয় স্বজনের অভাব নেই । কিন্তু এ মুহূর্তে কেউ কারো পাশে দ্বাড়াবার সুযোগ নেই । চাচাতো বোন শাওন আইইডিসিয়রের হট লাইনে যোগা যোগ করেছে ।তারা জানিয়েছে দৈনিক কয়েক হাজার কল পেন্ডিং । সেম্পল কালেকসনের লোক কম ।অপেক্ষায় থাকুন । করোনার রুগী কিনা তা জানার তাৎক্ষনিক সুযোগ পর্যন্ত মানুষের নেই ।অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে মানুষকে । চিকিৎসাতো অনেক পড়ের ধাপ ।সকলের কাছে কাকা কাকীর জন্য দোয়া কামনা করছি ।

১—৫৪ মিনিটে মাননীয় সংসদ সদস্য জ্যাকব ফোন করলেন । চরফ্যাসনের সার্বিক খোঁজ খবর নিলেন । তাঁর প্রতিটি অনুভূতি ছিল দেশাত্ববোধের ,মানুষের প্রতি মমত্ববোধের প্রকাশ । বললেন কাকা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠি ,বিশেষ করে কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের পাশে দ্বাড়াতে হবে ।এবার কোন ইফতার মাহফিল হবেনা ।ত্রাণ বিতরনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকল নেতা কর্মীকে মানুষের পাশে দ্বাড়াতে হবে । হোটেল রেস্তরা বন্ধ থাকায় রাস্তার কুকুর গুলো পর্যন্ত উচ্চিষ্ট থেকে বন্চিত । ওরা খাবার না পেলে দৃদিন পর ওরা মানুষ কামড়াবে ।প্রয়োজনে কুকুরের জন্যও আলাদা বরাদ্ধ দিতে হবে ।

জাতির এই ক্রান্তিকালে একজন সফল জনপ্রতিনিধির মনের অনুভূতি জানতে পেরে আবেগে আপ্লুত হয়েছি ।সর্বশেষ তিনি বললেন, আমার জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই ।যে মানুষের ভালবাসায় জাতীয় পর্যায়ে আমি সম্মানিত হয়েছি ।সেই মানুষের মাঝেই আমি আজীবন বেঁচে থাকতে চাই।, মানুষের জন্য ,দেশের জন্য আরো কাজ করতে চাই ।কর্ম ছাড়া মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই । অতপর সাংগঠনিক অনেক স্মৃতি রোমন্থন করলেন । আগামীদিনের সাংগঠনিক অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করলেন ।আমার কোয়ারেন্টাইন জার্ণাল গৃহবন্দীর জবানবন্দী নিয়মিত পড়েন জেনে অনুপ্রানিত হলাম । বললেন , সময় উপযোগী লেখা ।এখনই লেখার সময় ।(চলবে)